সোনার কলসের লোভ দেখিয়ে প্রতারণা

ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে ইছহাক প্রামাণিক ওরফে ইছহাক ফকির (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের সীমান্তবর্তী রাজবাড়ীর সুলতানপুর গ্রাম থেকে তাঁকে আটক করেন এলাকাবাসী। পরে তাঁকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

 ইছহাক প্রামাণিক ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইছহাক নিজ গ্রামে ফকিরি আস্তানা গড়ে তুলেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রলোভনের ফাঁদ পেতে প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তাঁর প্রতারণার শিকার হয়েছেন রাজবাড়ীর সুলতানপুর গ্রামের আবদুল বারেক সরদার (৫০)।

বারেক সরদার জানান, ৮ মাস আগে ইছহাক তাঁর বাড়িতে আসেন। তিনি বাড়ির বাঁশঝাড়ের কাছে গিয়ে তাঁকে ডেকে জানান, এখানে গুপ্তধন আছে। দুটি সোনার কলস। প্রায় ২ কোটি টাকার সম্পত্তি। এই কলস উঠাতে হলে টাকা লাগবে। তাঁর কথায় ফাঁদে পড়ে যান। প্রথম দফাতেই তিনি তাঁর হাতে তুলে দেন ৩২ হাজার টাকা। এরপর ৮ মাস ধরে ২০ লাখ টাকা দেন। সোনার কলসের কথা তিন কান করে পাশের গ্রামের বজলু নামের এক লোক মারা গেছেন বলেও ভয় দেখিয়েছিলেন ইছহাক। এ জন্য এ কথা কাউকে বলেননি।

টাকা আত্মসাতের ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর গত শনিবার সন্ধ্যায় বারেক সরদারের বাড়ি থেকে ইছহাককে আটক করেন এলাকাবাসী। এ সময় সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সোনালি রঙের জরি মাখানো মাটির দলাসহ কথিত সোনার কলসের নামে পিতলের দুটি খালি কলস। পরে এলাকাবাসী ইছহাককে ওই দুটি কলসহ ফরিদপুর সদরের শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে নিয়ে যান। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে তাঁকে আটক করে নিয়ে যায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ।

কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রতারণার অভিযোগে বারেক সরদারের বাড়ি থেকে আটক করে ইছহাক প্রামাণিককে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্যামসুন্দরপুর গ্রামে আস্তানা গেড়ে ঝাড়ফুঁক ও কবিরাজির চিকিৎসা করে মানুষকে প্রতারণা করে আসছিলেন।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম নাসিম গতকাল বিকেলে বলেন, ইছহাক প্রামাণিককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।