শেষ সময়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে ইজতেমা ময়দানের কাজ

আর মাত্র একদিন পরই শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমা। টঙ্গীর তুরাগতীরে আগামী বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর বয়ানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমা। প্রতি বছর দেশের ৬৪ জেলাকে দু’ভাগে বিভক্তের মাধ্যমে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা হবে এক পর্বে। মাত্র একদিন বাকি থাকলেও এখন পর্যন্ত মাঠের কাজ অনেকটাই বাকি।

আয়োজকরা বলছে, এত অল্প সময়ে সব কাজ এগিয়ে নিতে অনেক লোকবল প্রয়োজন।

মঙ্গলবার টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার মুসল্লি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে ইজতেমা ময়দানের বিশাল শামিয়ানা টাঙানোসহ আনুষঙ্গিক কাজ করছেন। প্রতিদিন ঢাকা, গাজীপুরসহ আশপাশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দল বেঁধে ইজতেমা ময়দানে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিশাল প্যান্ডেলের কাজ করছেন। ইতিমধ্যেই ইজতেমা ময়দানের শামিয়ানার কাজ অনেকটা শেষের পথে।

প্যান্ডেলের জিম্মাদার শিহাবুদ্দীনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার বিকালে প্রায় ৮০ লাখ টাকার চট এসেছে। সেগুলো আজ লাগানো হচ্ছে। নামাজের মিম্বার সোজা দক্ষিণে ২৫নং টয়লেট পর্যন্ত চট টানানোর কাজ মঙ্গলবার শেষ হবে বলে জানান তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী কম আসছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখনও কাজ অনেক বাকি। লোক দরকার প্রচুর। কিন্তু গতকালের তুলনায় আজকের উপস্থিতি অনেক কম। গতকাল যেখানে প্রায় ১৫ হাজার লোক কাজ করতে এসেছে সেখানে আজ মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার লোক কাজ করছেন মাঠে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বুধবারের মধ্যেই ইজতেমা ময়দান মুসল্লিদের জন্য প্রস্তুত করার জন্য তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। সে লক্ষে দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। চটের শামিয়ানা টানানোর পাশাপাশি বিদ্যুতের তার, গ্যাসের লাইন ও পানির পাইপ টানার কাজও চলছে। বিশ্ব ইজতেমা সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে মুসল্লিরা দলে দলে ভাগ হয়ে ইজতেমার মাঠে কাজ করছেন।

প্রতি বছরের মতো স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইজতেমা মাঠে প্রস্তুতিমূলক কাজ করছেন। মাঠের পুরোটা জুড়ে বাঁশের খুঁটি পুঁতা হলেও চটের ছাউনিসহ অন্য কাজ এখনো অনেক বাকি। এবার নিরাপত্তার জন্য মাঠে ব্যাপক সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। একটি খুঁটিতে চারদিকে চারটি করে ক্যামেরা লাগিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকজন। এ পর্যন্ত প্যান্ডেলের বেশির ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইজতেমার আয়োজক কর্তৃপক্ষ।

মতবিরোধের কারণে এবার তাবলিগের দু’পক্ষ আলাদাভাবে ইজতেমা পরিচালনা করবে। সংঘর্ষ এড়াতে মাওলানা সা’দ বিরোধীরা এককভাবেই মাঠ তৈরির কাজ করছে। ইজতেমার মাঠ তৈরির কাজে সা’দপন্থীরা অংশ নেয়নি। স্বেচ্ছাসেবীদের মধ্যে মাদ্রাসার ছাত্রদের উপস্থিতি এবার বেশি নজরে পড়ছে। মঙ্গলবার জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গীরচর থেকে ৪০০ ছাত্রের একটি জামাত আসে ময়দানের কাজে। এ ছাড়া গাজীপুরের মাদ্রাসাগুলোও গত শনিবার থেকে ক্লাস বন্ধ করে ইজতেমার মাঠে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন টঙ্গীর জামিয়া আকায়েদে মদিনার সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আব্দুল আজিজ সিরাজী।

প্রতিবারের বিশ্ব ইজতেমায় ভারত, পাকিস্তান, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মুসল্লির সমাগম ঘটলেও এবার তার পরিমাণ কিছুটা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন আয়োজক কমিটি। তাবলিগ জামাত দুই ভাগে ভাগ হওয়া ও গত বছর ডিসেম্বরের ১ তারিখে ইজতেমার ময়দানে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের কারণে বিদেশিরা নিরাপত্তার অভাববোধ করায় তাদের উপস্থিতি কম হতে পারে।

বিগত বছরগুলোতে বিশ্ব ইজতেমার সবকিছুই বিশ্ব তাবলিগ জামায়াতের সর্বোচ্চ মজলিশে শুরার নির্দেশনা অনুযায়ী হয়ে থাকলেও এবার সরকারের মন্ত্রীপর্যায়ের বিভিন্ন বৈঠকের মাধ্যমে তারিখসহ সবকিছু নির্ধারিত হয়।

উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে একই বছর ২ বার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সাল থেকে দেশের ৬৪ জেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ৩২ জেলার তাবলিগের মুসল্লিদের দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমায় অংশগ্রহণ করছেন। তবে বিবেদের কারণে এবার ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক পর্বে।