যাত্রী নিয়ে মেঘনায় আটকে গেল লঞ্চ

মেঘনায় চাঁদপুর থেকে ঢাকাগামী যাত্রীবাহী একটি লঞ্চ চরে আটকে গেছে। চালক অদক্ষ হওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে যাত্রীদের অনেকের অভিযোগ। শনিবার রাত সাড়ে সাতটায় চাঁদপুরের রাজরাজেশ্বর চরে এই ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১০টায় বিকল্প লঞ্চ গিয়ে যাত্রীদের উদ্ধার করে।

চরে আটকে যাওয়া লঞ্চটির নাম বোগদাদীয়া–৯। কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিন দিনের বন্ধ থাকায় দ্বিতলবিশিষ্ট এই লঞ্চে হাজারের বেশি যাত্রী ছিলেন। যাত্রীদের কেউ কেউ এই সংখ্যা বাড়িয়ে দুই হাজারের মতো বলছেন।

ওই লঞ্চের যাত্রী সাইফুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, লঞ্চটির চালকের আসনে ছিল মোশারফ হোসেন নামের ১৫ থেকে ১৬ বছরের এক কিশোর। তাঁর দাবি, ওই অদক্ষ চালক দিয়ে চালানোর কারণে লঞ্চটি একটি চরে গিয়ে আটকে যায়। এতে যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

সাইফুল আরও বলেন, যাত্রীরা চালকের অদক্ষতা লক্ষ করে তাকে লঞ্চ থামাতে বলেন। কিন্তু যতক্ষণে সে থামায়, ততক্ষণে লঞ্চ চরের ওপর উঠে যায়। তিনি বলেন, লঞ্চের প্রকৃত চালক থাকলে এই ঘটনা ঘটার কথা নয়।

চাঁদপুর নৌ–টার্মিনালের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, সন্ধ্যা সাতটায় লঞ্চটি চাঁদপুরঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। কিন্তু আধা ঘণ্টা পর অজ্ঞাত কারণে লঞ্চটি চরে আটকে যায়। তবে তাঁরা খবর পেয়ে বিআইডব্রিউটিএ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। রাত নয়টায় চাঁদপুর থেকে বিকল্প ইমাম হাসান–৫ নামের আরেকটি লঞ্চ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

লঞ্চের সুপারভাইজার আলী আজগর বলেন, ওই লঞ্চে দুজন চালক রয়েছেন। একজনের সমস্যা হলে আরেকজন লঞ্চটি চালানোর কথা। কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা লঞ্চে গিয়েই জানা যাবে।

চাঁদপুর বিআইডব্লিউটিএর পরিদর্শক মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জানার পর যাত্রীদের ঢাকায় পাঠানোর জন্য লঞ্চ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিকল্প আরেকটি লঞ্চের ব্যবস্থা করেছি।’ চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি জেনেছি। এ ব্যাপারে কারও কোনো ত্রুটি থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’