Press "Enter" to skip to content

বিরক্তিকর ঘামাচি বা হিট র‌্যাশ এড়াতে যা করবেন

প্রচণ্ড গরমে প্রাণ ওষ্ঠাগত। এর মধ্যে উপদ্রব হয়ে আসে ঘামাচি বা হিট র‌্যাশ। ঘামাচি মূলত ত্বকের ঘর্ম গ্রন্থির প্রদাহ। ঘর্ম গ্রন্থিগুলো ত্বকের গভীরে থাকে। যখন এর মুখ কোনো কারণে বন্ধ হয়ে যায়, তখন ঘাম বেরিয়ে আসতে পারে না, ফলে ফুসকুড়ির মতো র‌্যাশ ওঠে। এগুলো মূলত প্রথমে লাল, ভেতরে একটু পানির মতো জমে; পরে গোটাগুলো বড় হতে পারে। নখ দিয়ে আঁচড়ানোর কারণে সংক্রমণ হয়ে পুঁজও জমতে পারে। ত্বক খসখসে হয়ে যায় ও প্রচণ্ড চুলকায়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে মিলিয়ারিয়া। অনেকে বলেন হিট র‌্যাশ বা প্রিকলি হিট।

যে কারোরই ঘামাচি হতে পারে। তবে শিশুদের ঘাড়, মাথা, মুখ বেশি আক্রান্ত হয়। বড়রা আক্রান্ত হন শরীরের ভাঁজ এলাকায়। মোটা মানুষদের বেশি হয়। তা ছাড়া যাঁরা গরমে কাজ করেন, খুব ঘামেন, তাঁদেরই বেশি হওয়ার কথা। গরম ও আর্দ্র এলাকায় ঘামাচির প্রকোপ বেশি।

বিরক্তিকর ঘামাচি বা হিট র‌্যাশ এড়াতে যা করবেন
খুব গরমে বা রোদে বেশি ব্যায়াম করবেন না। বাইরে গরমে কাজ করার পর বেশি ঘেমে গেলে বাড়ি ফিরেই ভেজা কাপড়চোপড় পালটে ফেলুন। তারপর শরীরের ঘাম শুকিয়ে নিন।

এই গরমে পাতলা ঢিলে জামাকাপড় পরবেন, যার ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশুদের ভারী কাপড় বা কাঁথা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখবেন না। দরকার হলে খালি গায়েই রেখে দিন।

প্রতিদিন পানির ধারায় ভালো করে গোসল করুন, দরকার হলে একাধিকবার। বিশেষ করে বাইরে থেকে ফিরে বা খুব ঘেমে যাওয়ার পর। এতে ঘর্ম গ্রন্থির আটকে যাওয়া মুখ খুলে যাবে।

ফ্যান বা শীতাতপনিয়ন্ত্রক যন্ত্র ব্যবহার করা ভালো।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন।

অ্যান্টিপারসপিরেন্ট পাউডার ব্যবহার করা যায়।

চুলকানি বেশি হলে ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করতে হবে। নখ দিয়ে চুলকানো উচিত নয়, এতে সংক্রমণের আশঙ্কা আছে।

সংক্রমণ হলে বা পুঁজ তৈরি হলে অ্যান্টিবায়োটিক লাগতে পারে।

ডা. মো. আসিফুজ্জামান: চর্ম বিশেষজ্ঞ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

আগামীকাল পড়ুন: রমজানে শরীরচর্চা

প্রশ্ন-ত্তর

প্রশ্ন: বয়স ১৯ বছর, উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, ওজন ৬৭ কেজি। আরেকটু কম মোটা আর বেশি লম্বা হওয়া সম্ভব?

উত্তর: ১৮ বছর বয়সের পর লম্বায় আর বেশি বাড়া মুশকিল। যদিও অনেকে ২০-২১ বছর পর্যন্ত লম্বা হন। ওজন কমানোর জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করুন, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট হাঁটুন, ক্যালরি মেপে খান।

ডা. শাহজাদা সেলিম, হরমোন বিশেষজ্ঞ

%d bloggers like this: