বিএনপি নাশকতা করেছে কি না, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘অগ্নিকাণ্ড নিয়ে ফখরুলের বক্তব্য বিএনপির নাশকতার ইঙ্গিত দেয়।’ আজ শনিবার চট্টগ্রামের দেওয়ানজি পুকুরপাড় লেনের নিজের বাসায় কবি আবদুর রউফের কাব্যগ্রন্থ ‘দৃষ্টির গোপন গহিনে’ ও কবি মনজিল মুরাদ লাভলুর কাব্যগ্রন্থ ‘ভাঁজ ভাঙ্গা ঘ্রাণ’-এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই বলেই রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুন লেগেছে—বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে পেট্রলবোমা মেরে মানুষ হত্যার মতো বিএনপি কোনো নাশকতা করেছে কি না, খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব সম্পর্কে আমার ধারণাটা অনেক উচ্চ ছিল। কিন্তু ইদানীং তিনি অবান্তর কথা বলছেন। গণতন্ত্র নাই বিধায় চকবাজারে আগুন লেগেছে এটি কী রকম দায়িত্বজ্ঞানহীন কথা, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল প্রকারান্তরে অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে—তা–ই জানালেন।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি দেশে গণতন্ত্র নাই দাবি করে মানুষের ওপর পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে পাঁচ শর বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। সাড়ে তিন হাজার মানুষকে আগুনে ঝলসে দিয়েছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নাম দিয়ে। সে সময় পেট্রলবোমা মেরে মানুষকে যেভাবে পুড়িয়ে হত্যা করেছিল ঠিক একইভাবে চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, মির্জা ফখরুলের বক্তব্য একই ধরনের নাশকতার দিকে ইঙ্গিত করে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘চকবাজারের আগুনের সঙ্গে গণতন্ত্রের কী সম্পর্ক আমি জানি না। তবে এই কথার মাধ্যমে এটিই ব্যাখ্যা দেওয়া যায়, পেট্রলবোমার ঘটনাগুলোর মতো চকবাজারের আগুনের ঘটনার সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততা আছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’

শুক্রবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে গণশুনানিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশে গণতন্ত্র না থাকা ও সরকারের উদাসীনতার কারণেই একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। অপকর্ম করলেও সরকারকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে না।

অবান্তর কথা না বলে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে শিক্ষা নিতে মির্জা ফখরুলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি ভারতে ৪২ জন জওয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় সেখানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত। কয়েক মাস পর নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে সমস্ত বিরোধী দল বলেছে, আমরা সরকারের সঙ্গে আছি। সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সেটার সঙ্গে আমরা আছি, থাকব।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পুরো দেশ আজ শোকাহত, মানুষ শোকার্ত। মানুষ কিছু করতে না পারলেও নিহত-আহতদের জন্য অন্তত প্রার্থনা করছে। এই সময়ে একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে তাদের উচিত ছিল, জাতীয় ঐক্য প্রদর্শন করা। সেটি না করে যেকোনো ঘটনার মধ্যে রাজনীতি নিয়ে আসা সমুচিত নয়। এ ধরনের কথা বলে তারা বরং তাদের সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত দিচ্ছে।’

কর্ণফুলী টানেলের খননকাজের উদ্বোধন এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে রোববার চট্টগ্রামে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে বলেছিলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। সেটির ধারাবাহিকতায় গত ১০ বছরে চট্টগ্রাম বদলে গেছে, দেশ বদলে গেছে। আকাশ থেকে আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার যখন মানুষ দেখে, ভুল হয়, এটি কী চট্টগ্রাম শহর, নাকি ব্যাংকক। চট্টগ্রামের প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ভালোবাসা, মমত্ব এটির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে রোববারের সফর।’

একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদারের সভাপতিত্বে ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আবু তৈয়বের সঞ্চালনায় কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে আলোচক ছিলেন আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ-সাহিত্যিক আনোয়ারা আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক সেকান্দার চৌধুরী, বলাকা প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী লেখক ও গবেষক জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

কাব্যগ্রন্থ দুটির লেখকদের সাফল্য তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কবিতা মনের ভাব প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। কবিতা মনের কথা বলে, সমাজের কথা বলে। কবিতা মানুষকে পরিশীলিত হওয়ার শিক্ষা দেয়, প্রতিবাদী হতে উদ্বুদ্ধ করে। দেশাত্মবোধ সৃষ্টি ও সমাজে সাম্য প্রতিষ্ঠায় অবদান রাখে কবিতা। তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের এই সময়ে কবিতা লেখার প্রতি আগ্রহ কমে আসছে। একসময় লাইব্রেরিতে গিয়ে মানুষের পড়ার প্রতি ঝোঁক ছিল। কিন্তু স্মার্টফোন সেই অভ্যাস কেড়ে নিয়েছে। বিল গেটস তাঁর সন্তানদের বয়স ১৬ বছর হওয়ার আগে স্মার্টফোন দেননি। এই ফোনের অপব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও কাগজে ছোটদের পাতা থাকত। শিক্ষার্থীরা কবিতা লিখত। সে কবিতা ছাপা হলে দেখতাম তাদের বাঁধ ভাঙা উল্লাস। সেটি এখন আর নেই। কাগজে এখন ছোটদের পাতা তেমন থাকে না, কবিতাও লেখা হয় না।’