পাঁচ মাসের ঝামেলা শেষে মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন

পরিত্যক্ত মোহামেডান-মেরিনার্স ম্যাচ ড্র ঘোষণা করায় প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান।

এমনিতেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ হকি কালেভদ্রে মাঠে গড়ায়। এর সঙ্গে ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’—ঝামেলা ছাড়া শেষ হয় না কোনো টুর্নামেন্টেই। এই তো শেষ প্রিমিয়ার লীগের চ্যাম্পিয়ন কে, খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও এই প্রশ্নের উত্তর ঝুলে ছিল প্রায় পাঁচ মাস। আজ মোহামেডান স্পোর্টিংকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণার মধ্যে দিয়ে ঝুলে থাকা প্রশ্নটির জবাব মিলল। মূলত পরিত্যক্ত মোহামেডান-মেরিনার্স ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করাতেই ৪০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মোহামেডান।

গত ৭ জুন পরিত্যক্ত হয়েছিল মোহামেডান-মেরিনার্স গুরুত্বপূর্ণ লিগ লড়াই। সেদিন মেরিনার্স জিতলে আবাহনী-মোহামেডানের সঙ্গে এই দলটিরও পয়েন্ট হতো ৩৯। তখন শিরোপা মীমাংসায় তিন দলের প্লে-অফ হতো। তবে ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেত মোহামেডান।

কিন্তু চরম বিশৃঙ্খল ম্যাচটি ১-১ অবস্থায় ৪৪ মিনিট পর পরিত্যক্ত হয়। মেরিনার্সের পক্ষে গোল দেওয়া হলে প্রতিবাদে রিভিউ চায় মোহামেডান। কিন্তু মোহামেডানের রিভিউ না থাকলেও চীনা আম্পায়ার রিভিউ দেন। রিভিউ মানেনি মেরিনার্স। এসব নিয়ে ভজকট অবস্থায় দুই আম্পায়ার মাঠ ছেড়ে গিয়েছিলেন নজিরবিহীনভাবে। ফিরে এসে তাঁরা গোল বহাল রাখলে বেঁকে বসে মোহামেডান। দলটি খেলবে না!

নিয়ম হলো, গোলের বাঁশির পর দুই পক্ষকেই ১০ মিনিটের মধ্যে খেলায় ফিরতে হয়। কিন্তু মোহামেডান আসে ১৮ মিনিট পর। মোহামেডান যখন এল, বেঁকে বসে লিগের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দল মেরিনার্স। তাদের দাবি, মোহামেডান ১০ মিনিটের মধ্যে না আসায় নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে। এখন মেরিনার্সকেই জয়ী ঘোষণা করতে হবে। ব্যস, এই ঝামেলায় পার হয়ে গিয়েছে পাঁচ মাস।

অবশেষে আজ বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির সভায় ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র ঘোষণা করলে মোহামেডান ৪০ পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ আবাহনী লিমিটেড আর ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় মেরিনার্স।

তবে ফলাফলের বিষয়টি নিষ্পত্তি হলেও দুই দলের গোলযোগে খেলা শেষ না হওয়ার বিষয়টির সুরাহা হয়নি। এ নিয়ে ডিসিপ্লিনারি কমিটিকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলেছে নির্বাহী কমিটি। ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটির দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কোনো দলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেবে ফেডারেশন।