দ্বিতীয় ধাপে ১৭ জেলায় ভোট ১৮ মার্চ

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ১৮ মার্চ সোমবার দেশের ১৭ জেলার ১১৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে। চট্টগ্রাম, পাবনা কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিলেট ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন হবে।

নির্বাচনের দিন ওইসব এলাকা এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে জরুরি ও অনুমোদিত বাহনের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না। একইসঙ্গে জাতীয় মহাসড়কে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।নির্বাচন কমিশনের এক সতর্ক বার্তায় ইসির সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) আশাদুল হক বলেন, ১৫ থেকে ১৭ মার্চ সরকারি ছুটি থাকায় চট্টগ্রাম, পাবনা কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবান, সিলেট ও মৌলভীবাজারের ?পর্যটন এলাকাগুলোতে বেশি সংখ্যক পর্যটক সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।

যানবাহন ও অন্যসব কারণে পর্যটকরা যাতে কোনো সমস্যায় না পড়েন সেজন্য আগে থেকে এসব এলাকায় যেতে আগ্রহী পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করতে স্থানীয় পর্যটক সংস্থা, হোটেল, রেস্ট হাউস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের ভোটকে সামনে রেখে রোববার মধ্যরাত থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় কিছু যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ভোটের দু’দিন আগে থেকে ভোটের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪৬ জন : ইসির সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান জানান, ১৮ মার্চ ১২৯ উপজেলায় ভোট হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় ছয় উপজেলায় ভোটের দরকার পড়ছে না। আরও ছয় উপজেলার ভোট পিছিয়েছে। এজন্য ১১৭ উপজেলায় ভোট হবে সোমবার। এ ধাপে তিনটি পদে ৪৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন চেয়ারম্যান, ১২ জন ভাইস চেয়ারম্যান এবং ১১ জন সংরক্ষিত পদের ভাইস চেয়ারম্যান।

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলাগুলোয় প্রচার শেষ হচ্ছে শনিবার মধ্যরাতে। পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশ, ব্যাটালিয়ন আনসার থাকবে নির্বাচনী এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষায়।

১৮ মার্চ যেসব উপজেলায় ভোট : রংপুর বিভাগের ঠাকুরগাঁও, রংপুর, গাইবান্ধা এবং দিনাজপুর জেলার সব উপজেলা, রাজশাহী বিভাগের বগুড়া, নওগাঁ ও পাবনা জেলার সব উপজেলায় ভোট হবে। সিলেট বিভাগের সিলেট এবং মৌলভীবাজারের সব উপজেলা এবং ফরিদপুর জেলার সব উপজেলায় ভোট হবে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর চট্টগ্রামের সব উপজেলা (সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়ি, রাউজান, মীরসরাই ও হাটহাজারী) রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সব উপজেলা এবং নোয়াখালীর হাতিয়া ও কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ ধাপে ভোট হবে।

এবার উপজেলার ভোট হচ্ছে পাঁচ ধাপে। এর মধ্যে প্রথম ধাপের ভোট শেষ হয়েছে ১০ মার্চ। নানা অনিয়মের কারণে সেদিন ২৮টি কেন্দ্রে ভোট বন্ধ করা হয়; অন্তত তিনজন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরও প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণকে ‘মোটামুটি শান্তিপূর্ণ’ বলেছে নির্বাচন কমিশন। দলীয় প্রতীকে এ প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হলেও বিএনপিসহ বেশিরভাগ দলের বর্জনের কারণে প্রথম দফার ভোটে লড়াইয়ের আমেজ দেখা যায়নি। সেদিন ভোট পড়ে ৪৩ শতাংশ। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় প্রথমধাপে ২৮ জন বিনা ভোটে নির্বাচিত হন।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ মার্চ তৃতীয় ধাপে, ৩১ মার্চ চতুর্থ ধাপের উপজেলাগুলোতে হবে ভোট। পঞ্চম ও শেষ ধাপের ভোট হবে ১৮ জুন।