দুই ওসি প্রত্যাহার, চারজনকে অব্যাহতি

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে কাল সোমবার ১১৬ উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে পক্ষপাত ও অনিয়মের অভিযোগে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া ও গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া চারজন ওসিকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার বিকেলে নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

সচিব জানান, নির্বাচনে পক্ষপাতমূলক আচরণের কারণে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ, বগুড়ার শিবগঞ্জ, নওগাঁর মান্দা ও বান্দরবানের আলীকদমের ওসিকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাঁদের জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইসি এসব কর্মকর্তার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে এবং ব্যবস্থা নিয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে ইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সচিব জানান, দ্বিতীয় ধাপে চেয়ারম্যান পদে ২৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১৩ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১২ জন এরই মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। রোববারের ভোটে চেয়ারম্যান পদে ৩৩৭, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৪৮ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪০০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ১১৬ উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯টি কেন্দ্রে মোটে ১ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার ৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।ছয় উপজেলায় ভোট হবে না
দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের তফসিলভুক্ত ছয়টি উপজেলায় কোনো ভোট হচ্ছে না। ভোট ছাড়াই এই ছয় উপজেলার চেয়ারম্যান ও দুই ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে গেছেন। এই ছয়টি উপজেলা হলো—পাবনা সদর, ফরিদপুর সদর, নওগাঁ সদর, চট্টগ্রামের মিরসরাই ও রাউজান এবং নোয়াখালীর হাতিয়া।
হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য ইসি থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় কিছু সমস্যা আছে। সেখানে আগে থেকে উপজাতিদের মধ্যে বিরোধ আছে। সে জন্য ইসি নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চেয়েছে। নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের গন্ডগোল না হয় সে জন্য ১৭ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত তিন পার্বত্য জেলায় সেনাবাহিনী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে।
এর আগে শনিবার ইসি গাইবান্ধা-৫ আসনের সাংসদ ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এবং কক্সবাজার-৩ আসনে সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমলকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়।