Press "Enter" to skip to content

ডায়েটের আরও উপায়

অনেকে নানা রকমের ডায়েট পদ্ধতি অনুসরণ করে থাকেন। এর মধ্যে ইদানীং একটা ডায়েট পদ্ধতির কথা শোনা যায়, যার নাম ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা সবিরাম উপবাস। ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট হচ্ছে সপ্তাহে এক দিন, দুই দিন বা কখনো কখনো একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত শুধু পানি আর ফলের রস পান করে থাকা। যেমন সপ্তাহে এক দিন পানি বা চিনিহীন ফলের রস পান করা আর ছয় দিন স্বাভাবিক খাবার খাওয়া। ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে করা যায় এই ডায়েট। এমন ডায়েট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এখানে কয়েকটি উদাহরণ দেওয়া হলো:

১৬-৮ ঘণ্টা পদ্ধতি: ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১৬ ঘণ্টা উপোস থাকতে হবে এবং বাকি ৮ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়াদাওয়া করতে হবে। যেমন ধরুন আপনি সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত খাবেন, বাকি সময়, অর্থাৎ চারটার পর থেকে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত না খেয়ে থাকবেন। খাবারের সময়টুকু খাবার তিনবার কিংবা চারবারে ভাগ করে খাবেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ক্যালরি হিসাব রাখতে হবে।

২৪ ঘণ্টা পদ্ধতি: সপ্তাহে এক বা দুই দিন এভাবে উপবাস করা যায়। এক দিন রাতের খাবারের পর পরদিন আবার একই সময় রাতের খাবার খেতে হবে। মাঝখানে ২৪ ঘণ্টা সময় শুধু পানি আর ফলের রস পান করে থাকতে হবে, যাতে রক্তের সুগার স্বাভাবিক থাকে এবং ডিহাইড্রেশন না হয়।

৫: ২ পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতে সপ্তাহে দুই দিন ৫০০ থেকে ৬০০ ক্যালরি খেতে হবে। বাকি পাঁচ দিন স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে।

উপকারিতা
গবেষণা বলছে, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ওজন কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে, উচ্চ কোলেস্টেরল স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে, ফ্রি-রেডিক্যাল কমায়, অ্যান্টি-এজিংয়ে সাহায্য করে।

যাঁদের জন্য নয়
গর্ভবতী, স্তন্যদানকারী মা, যিনি সন্তান নিতে চাইছেন, যাঁদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা অনেক, যাঁদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে কম, যাঁদের বয়স ১৮ বছরের নিচে, তাঁরা এ ধরনের ডায়েট করবেন না। এ ছাড়া অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, ইনসুলিন ব্যবহারকারী, কিডনি, যকৃৎ বা হৃদ্রোগ থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে খাবারের সময় হলে প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, বাদাম, ডিম, চর্বিহীন মুরগি, প্রচুর পানি খেতে হবে। একেকজনের বিপাকক্রিয়া একেক রকম হওয়ার কারণে এই পদ্ধতি সবার ক্ষেত্রে সমান কাজ না-ও করতে পারে। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং চলার সময় চা, কফি, পানি, স্যালাইন, ওষুধ খেতে পারবেন। মনে রাখতে হবে, যেকোনো ধরনের ইন্টারমিটেন্ট ডায়েট করতে হলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে হবে।

%d bloggers like this: