ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য

হাসিতে মুক্তা ঝরাতে হলে দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাস আপনাকে মেনে চলতে হবে। দাঁত ও মুখের যত্নের শুরুটা হতে হবে একেবারে জীবনের শুরু থেকে আর ছয় মাস বছর বয়সে যখন প্রথম দাঁত উঠবে তখন নিতে হবে বাড়তি যত্ন।
ছয় মাস বয়সের আগে দুধ খাওয়ানোর পর পরিষ্কার নরম তুলা অথবা কাপড় দিয়ে মুখ মুছে দিতে হবে। ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য প্রতিদিন যে নিয়মটি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই, তা হলো নিয়মিত দাঁত মাজা বা ব্রাশ করা।
এক থেকে দেড় বছর বয়সের বাচ্চাকে বেবি টুথব্রাশ ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে সঙ্গে পানি ও ফ্লুরাইডবিহীন পেস্ট ব্যবহার করতে হবে। তিন বছর বয়সে ফ্লুরাইডযুক্ত পেস্ট ব্যবহার করতে পারবে।

দাঁত মাজা নিয়ে কিছু টিপস
* নরম শলাকার টুথব্রাশ ব্যবহার করুন।
* দুই মিনিটই যথেষ্ট দাঁত মাজার জন্য।
* শিরশির করা বা কোনো সমস্যা না থাকলে বাজারে পাওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরিবর্তন করে ব্যবহার করাই ভালো।
* ফ্লুরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
* কৌশল—বাচ্চাদের ক্ষেত্রে: ব্রাশ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে পুরো মুখে ব্রাশ করতে হবে।
বড়দের ক্ষেত্রে: ব্রাশ ওপর–নিচ করে দাঁতের সঙ্গে ৪৫ ডিগ্রি কোণ করে ব্যবহার করুন।
* দিনে দুবার (সকালে খাওয়ার পর এবং রাতে খাওয়ার পর) দাঁত ব্রাশ করবেন।

যে খাবার ও অভ্যাসগুলো ঝকঝকে সাদা দাঁতের অন্তরায়
* চা-কফি।
* কিছু ফল ও সবজি। যেমন—আপেল ও আলু।
* ধূমপান।
* পান, তামাকপাতা ও সুপারি খাওয়া।
* ঠিকমতো দাঁত ব্রাশ না করা।
* ফ্লসিং না করা (এতে দুই দাঁতের মধ্যখানে স্টেইন বা দাঁতের রঙের পরিবর্তন দেখা দেয়)।
* কোমল পানীয় পান করা।

অন্য আরও কারণ
* গর্ভাবস্থায় কিছু ওষুধ যেমন—টেট্রাসাইক্লিন সেবনে বাচ্চার দাঁতের স্থায়ীভাবে রঙের পরিবর্তন হতে পারে।
* এ ছাড়া ক্যানসারের চিকিৎসায় রেডিও ও কেমোথেরাপি দাঁতের রঙের পরিবর্তন করে।
* কিছু ফিলিং ম্যাটারিয়াল যেমন—অ্যামালগাম।
* বয়স বাড়া।
* আঘাত পাওয়া।
* দাঁত কিড়মিড় করার অভ্যাস থাকলে দাঁতের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফাটল তৈরি হয়ে তাতে দাঁতের রঙের পরিবর্তন হতে পারে।
* দাঁতের রং পরিবর্তন হয়ে গেলে বর্তমানে কিছু আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে, যা আপনি একজন নিবন্ধনকৃত মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হয়ে আপনার সমস্যা সমাধান করে নিতে পারেন।
* প্রথমেই আপনাকে ভালোভাবে দাঁত মাজা ও ফ্লসিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
* দাঁতের রং পরিবর্তনকারী খাবার পরিহার করতে হবে।
* দাঁতের ছোট ছোট পাথর জমার দরুন যে রঙের পরিবর্তন হয়, তা আপনি চিকিৎসকের কাছ থেকে স্কেলিংয়ের মাধ্যমে পরিষ্কার করে নিতে পারেন।
* পলিশিংয়ের মাধ্যমে দাঁতের উজ্জ্বলতা ফিরে পেতে পারেন।
* একেবারে ঝকঝকে সাদা দাঁতের জন্য করাতে পারেন ব্লিচিং, কিন্তু এটা ঘন ঘন না করার পরামর্শ রইল।
* বর্তমানে দাঁতের রঙের সঙ্গে ম্যাচিং করে অনেক আধুনিক ফিলিং উপকরণ পাওয়া যায়, যার মাধ্যমে আপনি আগের অ্যামালগাম ফিলিংটি পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
* ক্ষতিগ্রস্ত দাঁতের কিছু অংশ ভিনিয়ার নামক চিকিৎসার মাধ্যমে পরিবর্তন করে নিতে পারেন।
* আঘাতপ্রাপ্ত অথবা মৃত দাঁতের চিকিৎসায় ক্রাউনের মাধ্যমে রুট ক্যানেল করাতে পারেন।
* আর ছয় মাস পরপর দন্তচিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন।

লেখক: দন্তচিকিৎসক, ঢাকা ডেন্টাল কলেজ হাসপাতাল।